আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধ: জয় মুসলিম বিশ্বের

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধ: জয় মুসলিম বিশ্বের

অধ্যাপক এম. মিজানুর রহমান
সরকার ও রাজনীতি বিভাগ।
শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি।

***আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া দুটি রাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভুক্ত রাষ্ট্র ছিল। নাগার্নো-কারা বাখকে কেন্দ্র করে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ হয় ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত, দীর্ঘ 6 বছরের যুদ্ধের প্রাণ হারায় প্রায় 30 হাজার মানুষ। উল্লেখ্য যে আজারবাইজান মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র এবং আর্মেনিয়ান খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাষ্ট্র। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সরাসরি সংঘাতের ইতি ঘটলেও এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিবাদ অব্যাহত ছিল এবং আর্মেনিয়া চুক্তি ভঙ্গ করে তিনবার আজারবাইজানের ওপর হামলা করেছিল যা ছিল চুক্তিভঙ্গেরই নামান্তর। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে আজারবাইজানের পাশে থেকে সাহায্য করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এবং তুর্কির নবনির্মিত ড্রোন দিয়ে একের পর এক আর্মেনিয়ার যুদ্ধযান ধ্বংস করতে থাকে আজারী বাহিনী। যদিও যে এলাকাটি নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়, উক্ত এলাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ বলে স্বীকৃত কিন্তু আর্মেনিয়ার সরকারের সমর্থনে জাতিগত আর্মেনীয়রা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে আজারবাইজানের সেনাবাহিনী নাগার্নো কারাবাখ এর বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নিয়েছে যা আজারবাইজানের জন্য বড় বিজয়। এমত অবস্থায় পরোক্ষভাবে আর্মেনীয়কে সাহায্য করা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোল পার্শিয়ানকে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে কারণ রাশিয়া ইতিমধ্যে বুঝতে পারেন যে যেভাবে আজারি সৈন্যরা তাদের দখলকৃত ভূমি একের পর এক উদ্ধার করে চলছেন এবং আর্মেনিয়ার হাজার হাজার সৈন্য মৃত্যু ঘটছে এমত অবস্থায় শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকলে আর্মেনিয়ার গণহত্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমত অবস্থায় ভ্লাদিমির পুতিন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিফকে ফোন করে এবং একই সাথে আর্মেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোল পার্শিয়ানকে ফোন করে যুদ্ধবিরতির জন্য আহবান করে সেই মোতাবেক গত 10 অক্টোবর মঙ্গলবার ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিকে আজারবাইজানের জনগণের জন্য বিশাল বিজয় হিসেবে মনে করা হয় এবং সেইসাথে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্বের ব্যাপক বিজয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
উক্ত চুক্তিকে বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া এবং তুরস্ক যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন যা ইতিমধ্যে রাশিয়া 1960 জণ সেনা, 90 টি ট্যাংক, 380 টি সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছে আগামী পাঁচ বছরের জন্য অত্র অঞ্চলে করিডর স্থাপন করে তদারকি করবে এবং চুক্তি মোতাবেক আর্মেনিয় সরকার আজারবাইজানের যেসব অঞ্চল দখল করে রেখেছিল তা আগামী ডিসেম্বর 2020 এরমধ্যে আজারবাইজানের কাছে হস্তান্তর করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Company

Subscribe Newsletter

Sign up for our latest news & articles. We won’t give you spam mails.